দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত নিট সুদ আয় অন্তত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ২৭টি ব্যাংকের নিট সুদ আয় দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৫ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

২৭টির মধ্যে ২০টি ব্যাংকের নিট সুদ আয় কমেছে। নিট সুদ আয় ঋণাত্মক—এমন ব্যাংকের সংখ্যা এক বছরে ছয় থেকে বেড়ে ১০টি হয়েছে। অন্যদিকে, মূলত সরকারি বন্ডের কল্যাণে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আয় ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার ৬২২ কোটি টাকা।

মুনাফায় থাকা ২০টি ব্যাংক সম্মিলিতভাবে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে; বাকি সাতটির লোকসান ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক। সবচেয়ে বেশি লোকসানে ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক।

ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে গেছে, আর খেলাপি ঋণের বড় বোঝা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাকে চাপে রেখেছে। ফলে ঋণ দেওয়ার বদলে সরকারি বন্ডে টাকা রাখছে ব্যাংকগুলো। সিটি ব্যাংকের এমডি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর হওয়ার এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে আস্থা ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার