দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার, আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

ঋণের সুদ ও পরিশোধের শর্ত

চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

তবে ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ কমিটমেন্ট ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময়।

যেসব খাতে ব্যয় হবে ঋণের অর্থ

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা। পাশাপাশি আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ অর্থায়ন দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চলমান উদ্যোগে সহায়ক হবে।