স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের বদলে বাংলাদেশের উত্তরণ কার্যকর হবে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে উরুগুয়ে। একই ধরনের অনুরোধ জানানো নেপালের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

কেন সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন বদল, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ননীতি কমিটির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে সরকার। সিডিপি অনুরোধটি বিবেচনার সুপারিশ করে, আর ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) তা সাধারণ পরিষদে পাঠায়।

বাড়তি সময়ে যা মিলবে

বাড়তি এই তিন বছর এলডিসি হিসেবে পাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্যসুবিধা বহাল থাকবে। মেধাস্বত্বসংক্রান্ত ছাড়ও আরও তিন বছর পাবে বাংলাদেশ। এখনো কোনো দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না হওয়ায় সেই আলোচনার জন্যও সময় মিলল।

তবে এ সময়ে সংস্কারে অগ্রগতি দেখাতে হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে এবং প্রতিবছর সিডিপির কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাড়তি সময় নিজে থেকে কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। বাণিজ্য, রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার দরকার। পোশাকশিল্পের মালিকেরাও অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কাজে এই সময় কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন।