সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দারুণ সকাল কাটিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তাঁর ৬ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৩৫৬ রানে। তবে ব্যাট হাতে ধীরগতির শুরু করেছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় শুক্রবারের খেলা আগেভাগে শেষ হওয়ার সময় স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় নতুন বলে নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন হাসান। আগের দিন সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু ব্যাট তুলে বল ছেড়ে দিয়েছিলেন, ভেতরে ঢোকা বল উপড়ে দেয় তাঁর অফ স্টাম্প। ১৩৩ রানে থামে জাঙ্গুর ইনিংস। পরের বলেই রোস্টন চেজকে শূন্য রানে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান।

হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। পরের বলে জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউর আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার, কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায় বল আগে ব্যাটে লেগেছিল। পরে ৯০তম ওভারে বিশপকে (২৩) স্টাম্পিং করেন লিটন, স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে কিপিং করছিলেন তিনি। এটি ছিল টেস্টে হাসানের পঞ্চম ও দেশের মাটিতে প্রথম পাঁচ উইকেট। মধ্যাহ্নবিরতির সময় ৮ উইকেটে ৩২২ রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়।

জবাবে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠে আসা নাঈম হাসান ৫ রান করে জেডেন সিলসের বলে বোল্ড হন। তানজিদ হাসান আউট হন জাস্টিন গ্রিভসের বলে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের হাতে ক্যাচ দিয়ে। চা-বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৩৬ রান। এরপর ৬৫ বলে ১৮ রান করা নাজমুল হোসেন শান্তর অফ স্টাম্প উপড়ে দেন শামার জোসেফ।

দিনের বাকি সময়টা নিরাপদে পার করেছেন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত হৃদয়, ৫৬ বলে ১৯ রানে মুশফিক। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৩৭ রান।

দিনের শুরুতে অবশ্য দুঃসংবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে বাঁ গোড়ালিতে চোট পান ওপেনার সাদমান ইসলাম, তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সাদমানের গোড়ালি মচকে গেছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, এমআরআই করা হবে।

দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল তারা। সিরিজে সমতা ফেরাতে সিলেটে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।

তথ্যসূত্র: ইউএনবি, ক্রিকইনফো